সাহিত্য আলো

Editor: Mizanur Rahman Rana , E-Mail: mizanranabd@gmail.com
Mobile: 01742057854

                      সম্পাদক, প্রতিষ্ঠাতা: মিজানুর রহমান রানা

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

*****************************************************************************

 

বাংলা সাহিত্যে মধুসূদন

বশির হোসেন চৌধুরী

মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) কে আমরা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও সার্থক মহাকাব্য রচনার জন্যে অসাধারণ প্রতিভাধর কবি হিসেবেই চিনি। অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করে বাংলা কবিতায় তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছিলেন। আধুনিক বাংলা নাটকও রচিত হয় তাঁর হাতেই। খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। সাহিত্যচর্চার প্রারম্ভেই তিনি ইংরেজি ভাষায় কাব্য চর্চা শুরু করেন, কিন্তু কাঙ্খিত লক্ষ্যে সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে,Ñ অতপর তাঁর ভুল বুঝতে পেরে বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চা শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্যে চিরস্মরণীয় হন।
বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের প্রহসন ও সনেট রচনায় উল্লেখ্য যে, “ইংরেজি সাহিত্যে একবার একটা সনেটের মরসুম এসেছিলো সেটা ছিলো ষোল শতকের শেষ দশক। ছোট-বড়-মাঝারি বিলেতের কবিকুল সবাই মিলে কয়েক হাজার সনেট লিখে ফেলেছিলেন। সনেটের ঢেউ এসেছিলো বললে কিছুটা বলা হয় না, সনেটের জোয়ার এসেছিলো। প্রথমে পথ দেখালেন স্যার ফিলিপ সিডনী। তাঁর অ্যাসট্রোফেল অ্যান্ড স্টেলা সনেটগুচ্ছের প্রকাশ (বছর ১৫৯১) ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে একটা বড় ঘটনা, ইংরেজি ভাষায় প্রথম সনেট-প্রবাহ। পরবর্তী নয় বছরে একটির পর একটি সনেট-প্রবাহের ঢেউ। দশক (এবং শতাব্দী) শেষ না হতেই আবার যেমন হঠাৎ এসেছিলো, তেমনি হঠাৎ মিলিয়ে গেল সনেটের জোয়ার। শেক্সপীয়রের সনেট এই মরসুমেরই ফসল, যদিও এর প্রকাশ মরসুম ফুরিয়ে যাওয়ার পুরো এক দশক পরেÑ ১৬০৯ সালে”।১
বাংলা সাহিত্যেÑ‘মধুসূদনকে আমরা পাশ্চাত্য শিক্ষাপুষ্ট, আধুনিক জীবন জিজ্ঞাসু নবমানবতার উদ্গাতা আভিজাত্যগর্বী পরিশীলিত রুচির কবি এবং ধন-যশ-মান লিপ্সু উচ্চভিলাসী মানুষ বলে মানি ও জানি’। পাশ্চাত্য জীবনবোধে ভুঁইফোড় মধুসূদনের চেতনায় পৌরুষ, ঐশ্বর্যগর্ব ভোগলিপ্সা স্থুল ও অমার্জিতই রয়ে গেছে; তাঁর জীবনে কিংবা কাব্যে তা’ সূক্ষ্ম ও পরিস্রুতরুচি বা রসরোধে পরিণত হয়নি বরং দাম্ভিকতায় তার প্রকাশ এবং হতবাঞ্ছার হাহাকারে ঘটেছে তার পরিণতি।২ ত্যাগ ও অনাসক্তির মধ্যেও যে সুখ ও মর্যাদা আছে, তা’ ভোগকামী মধুসূদন ক্ষণকালের জন্যেও উপলদ্ধি করেননি। তাঁর এত বিদ্যা, এত ভাষাজ্ঞান এবং অসামান্য প্রতিভাই তাঁকে সমাজে প্রথম শ্রেণীর গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠাদানের পক্ষে যথেষ্ট ছিলো। তাঁর চোখের সামনে রেবারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপধ্যায়, বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ন বসু, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, কেশবচন্দ্র প্রমুখ অনেকেই কলকাতার ধনী সমাজের শ্রদ্ধেয় ও মান্য হয়ে উঠেছিলেন। মধুসূদনের সেদিকে খেয়াল ছিলো না। তারপর বাঞ্ছাহত প্রায় বেকার মধুসূদন যৌবনের প্রান্তে এসে যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর প্রমুখের ইয়ার্কিসূলভ ঈযধষষবহমব গ্রহণ করে নিতান্ত কৌতুক বসেই বাংলার প্রতীচ্য আদর্শে সাহিত্য সৃষ্টি করতে শুরু করলেন।৩
বাঞ্ছাহত বিড়ম্বিত মধুসূদনের মন প্রতিবিম্বিত হয়েছে তাঁর শেষ অসমাপ্ত রচনা ‘মায়াকানন ও বিষ না ধনুর্গুণ’ নামের মধ্যেও। মধুসূদনও এমনি উদ্ধ্যত সুন্দর শিশু। মধু চরিত্রের মাধুর্য এখানেই, মধু-জীবনের ট্র্যাজেডির বীজও এতেই উপ্ত আর মধু সাহিত্যের তত্ত্বও এতে নিহিত।৪ কিন্তু জীবৎকালে ধন, যশ ও মান কোনোটাই মধুসূদনের ভাগ্যে জোটেনি। এতবড় বিড়ম্বনা মানুষের জীবনে বেশি দেখা যায় না। ধন তিনি উপার্জন করেছিলেন কিন্তু তা’ পর্যাপ্ত ছিলো না; যশ তিনি পেয়েছিলেন কিন্তু তা’ আশা অনুরূপ ছিলো না; আর তাঁর প্রাপ্য সম্মানও তিনি পাননি। রোজগার করতে চেয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ, তার হাজারে হাজারেও হয়নি। হতে চেয়েছিলেন ভুবন-বন্দ্য ইংরেজি কবি, হলেন স্বল্প প্রশংসিত বাংলা কবি। আশা করেছিলেন সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতাপ, কিন্তু রইলেন সমাজচ্যুত হয়ে। জীবনকালে বাঁচার মত বাঁচতে পারেননি, মরে হলেন অমর। মধুসূদনের এই চরিত্র, এই আকাক্সক্ষা ও হতবাঞ্ছাই তাঁর সৃষ্ট-সাহিত্যে প্রতিবিম্বিত।৫ পাক-ভারত উপমহাদেশে ভাষাতত্ত্ব বলতে সাধারণত আমরা তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বই বুঝতাম। আর বহুভাষাবিদ ব্যক্তিই সাধারণ্যে ভাষাতাত্ত্বিক নামে পরিচিত হতেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর ইউরোপে ভাষাতত্ত্ব সম্পর্কে এরকম একটা ধারণা ছিলো। ঈড়সঢ়ধৎধঃরাব চযরষড়ষড়মু বা তুলনামূলক ভাষা আলোচনাই ছিলো এ শতাব্দীর ইউরোপীয় ভাষাবিজ্ঞানের লক্ষ্য। ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে স্যার উইলিয়াম জোন্স কতৃক সংস্কৃত ভাষার আবিষ্কার ইউরোপীয় তুলনামূলক ভাষা বিজ্ঞানের পঠন-পাঠনে বিশেষভাবে সহায়তা করে। ফলে গ্রীক, ল্যাটিন, প্রাচীন ফার্সি ও সংস্কৃত প্রভৃতি ভাষাগুলোর মধ্যে এক আশ্চর্য দৈহিক ও আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হয়। ভাষাসমাজ জীবন গঠন ও রচনার প্রধান উপকরণ। সে জন্যে জীবন্ত মানুষের মুখে ভাষার ব্যবহার তার সজীবতাই পরিচয় বহন করে। তুলনামূলক এবং ইতিহাসভিত্তিক ভাষাতত্ত্ব ভাষার অতীত রূপের আলোচনা করে। ভাষাবিজ্ঞানের এ দ্বিবিধ শাখায় ভাষার সামগ্রিক রূপের পরিবর্তে প্রধানত ভাষার শব্দাবলির এবং ক্ষেত্রবিশেষে তার ধ্বনি পরিবর্তন এবং বিবর্তনের ইতিহাসই আলোচিত হতে দেখি।৬
আমাদের সৃজনশীল সাহিত্যিকদের মধ্যে মধুসূদনই প্রতিচ্যের প্রথম চিত্তদূত। প্রাচীন ও মধ্য যুগের য়ুরোপীয় সাহিত্য সংস্কৃতিই ছিলো তাঁর অনুধ্যানের বিষয়। তিনি ছিলেন মৎধহফ ধহফ ংঁনষরসব-এর অনুরাগী। মৎধহফবৎ ও মৎধহফড়রংব উনিশ শতকী যুরোপে ছিলো বিরল, তাই তাঁর মানস পরিক্রমের ক্ষেত্রে প্রাচীন ও মধ্যযুগেই রইল সীমিত। আধুনিক য়ুরোপে কিংবা ভারত তাঁকে আকৃষ্ট করেনি। তবু আমাদের দেশে তিনি নতুনের বাণীবাহক, নতুনের ধ্বজাধারী যুগস্রষ্টা চিন্তানায়ক। আমরা তাকে ভুলিনি, ভুলতে পারবোও না।৭ মধুসূদনের জীবনীকার যোগেন্দ্রনাথ বসু জানিয়েছেন: রাজা রাজমোহন রায় ধর্ম ও সমাজ সম্বন্ধে যে বিপ্লব আনয়ন করিয়াছেন, বাঙ্গালা কবিতা সম্বন্ধে মধুসূদন সেইরূপ করিয়াছেন বলিলে অত্যুক্তি হবে না। তাজ্জব হতে হয় যে মহারাজা যতীন্দ্র মোহন ঠাকুরের মত কিছু সমঝদার ব্যক্তি ছিলেন, যাঁরা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মধুসূদনের কবিতার যে নতুনত্ব যে সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাÑ তা’ বুঝেছিলেন এবং তাঁকে যথাযোগ্য সমাদর করেছিলেন। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন, “দুর্ভাগ্যক্রমে মাইকেলের ওপর মিলটনের প্রভাব যৎকিঞ্চিত ছিলো না; এবং অসুস্থকাব্যের রোগ সারানোর পক্ষে সেই কবিরাজের চিকিৎসা যেহেতু শ্রেষ্ঠ উপায় নয়, তাই মাইকেল ছন্দকে অমিত্রাক্ষর করেই থামলেন, বুঝলেন না যে ভাষা প্রকৃত না হলে প্রকৃত কাব্য রচনা অসম্ভব।৮
‘কালান্তর’ নামপ্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ভারতের স্বাধীনতার প্রত্যাশার মধ্যে ছিলো আমাদের একদিকে ইংরেজদের প্রতি বিরুদ্ধতা, অন্যদিকে ছিলো ইংরেজ চরিত্রের প্রতি গভীর আস্থা। মনুষ্যত্বের দোহাই দিয়ে ভারতের শাসন কর্তৃত্বে আমাদের শরিক হওয়ার কথা আমরা ইংরেজ প্রবর্তিত শিক্ষা থেকেই পেয়েছি। আমাদের আচরণে পদে পদে প্রতিবাদ সত্ত্বেও ইউরোপের শিক্ষার প্রভাব কাজ করেছে। বৈজ্ঞানিক বুদ্ধি সম্বন্ধেও ঠিক একই কথা বলা যায়। বিজ্ঞানের ছোঁয়া পেয়েও আমরা ঘরের পাঁজিপুথি এখনও ছাড়তে পারিনি। ইউরোপের শিক্ষা বা জ্ঞান প্রতিভার মধ্য দিয়েও এ-দেশে আমাদের কাছে সম্মান পাচ্ছে। আসলে ইউরোপের সঙ্গে এ-দেশের মানুষের চিত্তের ও শিক্ষার অসহযোগ যেখানে সেখানেই এ-দেশের মানুষের পরাজয়।৯ রবীন্দ্রনাথ, সুধীন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব Ñতিনজন কবি বিভিন্ন প্রসঙ্গে মাইকেল সম্বন্ধে বিশেষত তাঁর ব্যবহৃত বাংলা ভাষা সম্বন্ধে যা বলেছেন তার মধ্যে বক্তব্যের প্রায় অভিন্নতা লক্ষ্য না করে উপায় নেই। গবেষক ও পণ্ডিতের তথ্যে ঠাঁসা ভারী কেতাব যা না পারে, তাই পারে কবিদের একটা মন্তব্য, প্রায় স্বগতোক্তির মতো, একটা অর্ধোচ্চারিত আপত্তি, একটা শাণিত বিদ্রুপÑ যদিও বিদ্রুপ এরা কেউই করেননি।১০ ‘ছন্দকে অমিত্রাক্ষর করেই থামলেন’Ñ এটাই হলো মারাতœক উক্তি। যদি তাই হতো তাহলে মাইকেল বিয়য়ে আজ এতো কথা বলার দরকার হতো না এবং প্রকৃত কাব্য যে রচিত হলো না, তার কারণ, সুধীন্দ্রনাথের মতে, মাইকেল একান্তভাবেই সংস্কৃত শব্দকোষের ওপর নির্ভরশীল হয়েছিলেন, ভাষাকে প্রকৃত করে তুলতে পারেননি।১১
অস্তিত্বের সরল ও প্রাথমিক স্তর পেরিয়ে সত্তার এই রহস্যময়, দুজ্ঞেয়, বহুতলজটিল ও উন্নত বিকাশের অধ্যায়ে জেগে উঠাই তাঁর সেই বহুকথিত ‘দ্বিজত্ব’ কিংবা বোধিত্ব বা তাঁর ‘নবুয়ত’ তাঁর ভেতরকার ব্যতিক্রমী, মৌলিক, চিন্ময় ও উচ্চায়ত দুর্লভ জন্মমূহূর্ত। একজন প্রতিভাবান মানুষের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে অস্তিত্বের এই প্রাথমিক স্তর থেকে চৈতন্যের ঊর্ধ্বলোকে উত্তরণের এই পর্ব, এজন্যেই অনিবার্য। মধুসূদন, আমার ধারণা, এই উত্তরণ- মুহূর্ত স্পর্শ করেছিলেন। মেঘনাদবধ কাব্যেও যাত্রাপর্বেইÑ কাব্যলক্ষ্মীকে আবাহনের প্রত্যয়দীপ্ত শব্দাবলীর ভেতর তিলোত্তমা সম্ভারের আড়ষ্টতা কাটিয়ে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত খানিকটা অভাবিতভাবেই ,উচ্চায়ত বিষয়শ্বৈর্যের ভেতর বন্যার উচ্ছুত আবেগে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল:
“তুমিও আইস, দেবি, তুমি মধুকরী
কল্পনা ! কবির চিত্ত-ফুলবন-মধু
লয়ে, রচ মধুচক্র, গৌড়জন যাহে
আনন্দে করিবে পান সুধা নিরবধি।” [মেঘনাদবধ কাব্য: প্রথম সর্গ]১২
মেঘনাদবধের প্রাণ তাঁর কর্মে, নয় তাঁর চিন্তা ও ভাবনায়। এখানে বিলাপ আছে, একটু বেশি পরিমাণেই আছে, অনুশোচনা আছে, নেই ভাবনা, নেই বিতর্ক নেই আত্মজিজ্ঞাসা। এমনকি ধর্মা ধর্ম প্রসঙ্গটা এখানে অতি হাল্কাভাবে উপস্থিত।১৩ একথা সত্য, বাংলা সাহিত্যে মেঘনাদবধ তার দোহার ফেল না। সম্পূর্ণ একলা রয়ে গেল। অর্থাৎ মাইকেল বাংলা ভাষায় এমন একটি পথ খুঁজেছিলেন, যে পথে কেবলমাত্র তাঁরই একটিমাত্র মহাকাব্যের রথ চলেছিলো। তিনি বাংলা ভাষার স্বভাবকে মেনে চলেননি, তাই তিনি যে-ফল ফলালেন তাতে বীজ ধরল না, তাঁর লেখা সন্ততিহীন হলো, উপযুক্ত বংশাবলী সৃষ্টি করল না।১৪
চতুর্দশপদী কবিতাবলী কবিতা হিসাবে মাইকেলের দুর্বলতম রচনার অর্ন্তগতÑদুঃখের সঙ্গে আমি একথা বলব। ব্রজাঙ্গনা কাব্য এটাই প্রমাণ করে যে, গীতি কবিতার মেজাজ তাঁর ছিলো না এবং ছিলো না যে তা’ তিনি জানতেন না। রবীন্দ্রনাথ যেমন অতিরিক্ত ভুল-ভ্রান্তির পথে না গিয়ে নিজের কবি প্রবণতা ঠিক ঠিক বুঝে নিয়েছিলেন, মাইকেল তা’ পারেননি। নইলে ব্রজাঙ্গনা কাব্যের কলেবর এতটা স্ফীত হওয়ার দরকার ছিলো না এবং গোটা দশ-বারো চতুর্দশপদী লিখেই তিনি থেমে যেতেন। তবু চতুর্দশপদী কবিতাবলীর একটু মূল্য আছেÑ এখানে আমরা মধুসূদনের বাঙালি মনের পূর্ণ পরিচয় পাই।১৫ সমাজের সাথে সুলেখকের কলহ থেকেই উদ্ভব হয়েছে কমেডি ও ব্যঙ্গ রচনা। প্রাচীন কমেডিতে নাট্যকার ব্যঙ্গ ও বিদ্রƒপের আশ্রয় নিতেন, কখনো ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে কখনো সমাজকে, কখনো সমাজের কোনো প্রবণতা বা বিশ্বাসকে আঘাত করার জন্যে। এর সব ভঙ্গিই প্রতিবাদের নয়, যে অর্থে আধুনিক যুগে ইবসেন বা বার্নার্ড শ প্রতিবাদী কমেডির স্রষ্টা। আধুনিক যুগে আমাদের সাহিত্যেও শোনা গেল প্রতিবাদের কণ্ঠ। রাবনের স্রষ্টা মাইকেলই সূচনা করলেন বাংলাসাহিত্যে এই নতুন ধারার। মাইকেলে যা নাটকীয় সৃষ্টির পরোক্ষতায় প্রকাশ পেয়েছে, নজরুল ইসলামে তাই এসেছে কবির প্রত্যক্ষ উচ্চারণে। পটভূমি দু’জনের ক্ষেত্রে দু’রকম।১৬
মাইকেল মধূসূদনের জন্ম বাংলাদেশেই এবং তিনি বাংলা ভাষারই একজন খ্যাতিমান কবি। ভাষা সম্বন্ধে তিনি কোনোদিনই উদাসীন্য দেখাননি, সুধীন্দ্রনাথ যে কথাটি অনিচ্ছুক স্বীকৃতির মতো বলেই অন্য কথায় চলে গেলেন। তাঁর লেখায় লক্ষ্য করতেই হয় যে, প্রায় সব জায়গায় যেমন আলাদা তাঁর কবিতার বুনট, তেমনি আলাদা তার চলন। মাইকেল সংস্কৃত শব্দকোষের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, নিজের প্রয়োজন সম্বন্ধে পুরোপুরি সচেতন হয়ে। বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম প্রবর্তক, ইনোভেটর, যেমন-পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ দাশ। কিন্তু প্রবর্তনের মোহে দিক্ভ্রান্ত নন। তাঁর শিকড় বাংলাভাষার মাটিতেই, তাঁর কাব্যে নতুনতর শক্তির সংযোজন ঘটেছে, আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন পথ ও পদ্ধতির। প্রসঙ্গতই মাইকেল তাঁর কাব্যে যা সৃষ্টি করেছেন, তা’ সে তাঁর মতো করেই করেছেন, যার ফলে মাতৃভাষায় তিনি আত্মপ্রতিষ্ঠিত।

  লেখক পরিচিতি: বশির হোসেন চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক (হিসাববিজ্ঞান), ধড্ডা মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

Sheikh Rafiq

মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক

alt২৫ জানুয়ারি ২০১০ ছিল মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৮৬তম জন্ম-জয়ন্তী। তিনি ছিলেন বাঙালি কবি ও নাট্যকার তথা বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য। তিনি মাত্র ৪৯ বছর বয়সে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় মারা যান।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি। তৎকালীন ব্রিটিশভারতের যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ বংশে। সাগরদাঁড়ির মাটি আর কপোতাক্ষ নদের স্মৃতি কবির জীবন জুড়ে সব সময় সবকিছুতে জ়ড়িয়ে ছিল। কায়স্থ বংশে জন্ম হলেও মধুসূদন যৌবনে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। যার কারণে তাঁর নামের পূর্বে মাইকেল শব্দটি  যুক্ত করেন।

 

বাবা রাজনারায়ণ দত্ত। মা জাহৃবী দেবী।
পড়াশুনার হাতেখড়ি পরিবারে। তারপর ১৮৩০ সালে পার্শ্ববর্তী শেখপুরা জামে মসজিদে মৌলভিসাহেবের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর ১৮৩৩ সালে তিনি কলকাতা চলে যান।
লেখালেখি জীবনের এক পর্যায়ে তিনি পাশ্চাত্য সাহিত্যের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ আকর্ষণ অনুভব করেন। এ সময় তিনি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় দিকে মনোনিবেশ করেন। এই আকর্ষণ বেশী সময় ধরে স্থায়ী হয়নি। অবশেষে তিনি বুঝতে পারলেন মাতৃভাষায় ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় সাহিত্য রচনার মধ্যে প্রাণ থাকে না। তাই জীবনের দ্বিতীয় পর্যায়ে মধুসূদন আকৃষ্ট হন নিজের মাতৃভাষার প্রতি। এই সময়েই তিনি বাংলায় নাটক, প্রহসন ও কাব্যরচনা করতে শুরু করেন। মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৮৪৮ সালে প্রথম তিনি রেবেকা ম্যাকটাভিসকে বিয়ে করেন। হেনরিয়েটা সে সময় কবির স্ত্রী ছিলেন না। তখন তারা সপরিবারে কলকাতায় বসবাস করতেন। ১৮৪৯ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি' প্রকাশিত হয়। ১৮৬১ সালে 'মেঘনাদবধ' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মহাকবির স্বীকৃতি লাভ করেন। ১৮৬৩ সালে তিনি ইংল্যান্ড যান। ১৮৬৭ সালে কবি ব্যারিস্টার ডিগ্রি নিয়ে আইন ব্যবসা শুরু করেন।
কবিকে ঘিরে আরো নানা গল্প রয়েছে। এসব গল্প সাগরদাঁড়ির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলা হয়। লেখাও হয়। সাগরদাঁড়িতে দত্ত বাড়ির পাশেই স্থানীয় যুবকরা ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করে মধুসূদন একাডেমি। এই একাডেমিতে কবির গুরুত্বপূর্ণ কিছু দলিলের ফটোকপি রয়েছে। একাডেমি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা মধুসূদন-গবেষক খসরু পারভেজ। মাইকেলের স্মৃতি বিজড়িত সাগরদাঁড়িতে রয়েছে মধুসূদনের পৈতৃক বাড়ি, পাঠাগার, মিউজিয়াম, কবির আবক্ষ ভাস্কর্য, মধু উদ্যান, শিশুপার্ক, পাঠশালা, কাঠবাদামতলা, বিদায় ঘাট, ঐতিহাসিক কপোতাক্ষ নদ, মধুসূদন একাডেমি, পর্যটন মোটেল, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি: দ্য ক্যাপটিভ লেডি, শর্মিষ্ঠা, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী, হেকটর বধ’ ইত্যাদি। মাইকেলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকীয় এবং বেদনাঘন।
পরবর্তীতে প্রেসিডেন্সী কলেজে পড়াশুনাকালীন সময়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণ করায় তার নামের আগে ‘মাইকেল’ নামটি যুক্ত হয়। ইংরেজি ভাষায় মহাকাব্য লিখতে উদ্যত মধুসূদনকে বাংলায় লিখতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন বেথুন সাহেব। ধনী পিতার সন্তান হয়েও তিনি পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন। ফ্রান্সে থাকাকালীন অর্থাভাবে জর্জরিত মধুসূদনকে টাকা পাঠিয়ে সাহায্য করতেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
মধুসূদন দত্ত নাট্যকার হিসেবেই প্রথম বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে পদার্পণ করেন। রামনারায়ণ তর্করত্ন বিরচিত রত্নাবলী নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে উপযুক্ত নাটকের অভাব বোধ করেন। এই অভাব পূরণের লক্ষ্য নিয়েই তিনি নাটক লেখালেখিতে আগ্রহী হয়েছিলেন। ১৮৫৯ খৃস্টাব্দে তিনি রচনা করেন ‘শর্মিষ্ঠা নাটক’। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক।
১৮৬০ খৃস্টাব্দে তিনি রচনা করেন দুটি প্রহসন, যথা: একেই কি বলে সভ্যতা এবং বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ এবং পূর্ণাঙ্গ পদ্মাবতী নাটক। পদ্মাবতী নাটকেই তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। ১৮৬০ খৃস্টাব্দেই তিনি অমিত্রাক্ষরে লেখেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। এরপর মেঘনাদ বধ কাব্য (১৮৬১) নামে মহাকাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১), কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১), বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২), চতুর্দশপদী কবিতা (১৮৬৬)।
১৮৭২ সালে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জন্মকালের কবিকে ঢাকাবাসী সংবর্ধনা দেয়। মধুসূদনের শেষ জীবন চরম দুঃখ ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। আইন ব্যবসায়ে তিনি তেমন সাফল্য লাভ করতে পারেননি। তাছাড়া অমিতব্যয়ী স্বভাবের জন্য তিনি ঋণগ্রস্তও হয়ে পড়েন। ১৮৭৩ খ্রীস্টাব্দের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে কপর্দকহীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

চতুর্দশপদী কবিতাবলী - মাইকেল মধুসূদন দত্ত


১- উপক্রম

যথাবিধি বন্দি কবি, আনন্দে আসরে,
কহে, জোড় করি কর, গৌড় সুভাজনে;---
সেই আমি, ডুবি পূর্বে ভারত-সাগরে,
তুলিল যে তিলোত্তমা-মুকুতা যৌবনে;---
কবি-গুরু বাল্মীকির প্রসাদে তত্**পরে,
গম্ভীরে বাজায়ে বীণা, গাইল, কেমনে,
নাশিলা সুমিত্রা-পুত্র, লঙ্কার সমরে,
দেব-দৈত্য-নরাতঙ্ক--- রক্ষেন্দ্র-নন্দনে;
কল্পনা দূতীর সাথে ভ্রমি ব্রজ-ধামে
শুনিল যে গোপিনীর হাহাকার ধ্বনি,
(বিরহে বিহ্বলা বালা হারা হয়ে শ্যামে---
বিরহ-লেখন পরে লিখিল লেখনী
যার, বীর জায়া-পক্ষে বীর পতি-গ্রামে,
সেই আমি, শুন, যত গৌড়-চূড়ামণি!---
 
 
৩- বঙ্গভাষা
হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;---
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;---
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে---
``ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!''
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥
 
 
১৫- যশের মন্দির
সুবর্ণ-দেউল আমি দেখিনু স্বপনে
অতি-তুঙ্গ শৃঙ্গ শিরে! সে শৃঙ্গের তলে,
বড় অপ্রশস্ত সিঁড়ি গড়া মায়া-বলে,
বহুবিধ রোধে রুদ্ধ উর্দ্ধগামী জনে!
তবুও উঠিতে তথা--- সে দুর্গম স্থলে---
করিছে কঠোর চেষ্টা কষ্ট সহি মনে
বহু প্রাণী। বহু প্রাণী কাঁদিছে বিকেলে,
না পারি লভিতে যত্নে সে রত্ন-ভবনে।
ব্যথিল হৃদয় মোর দেখি তা সবারে।---
শিয়রে দাঁড়ায়ে পরে কহিলা ভারতী,
মৃদু হাসি; ``ওরে বাছা, না দিলে শকতি
আমি, ও দেউলে কার সাধ্য উঠিবারে?
যশের মন্দির ওই; ওথা যার গতি,
অশক্ত আপনি যম ছুঁইতে রে তারে!''
  2
ইতালি, বিখ্যাত দেশ, কাব্যের কানন,
বহুবিধ পিক যথা গায় মধুস্বরে,
সঙ্গীত-সুধার রস করি বরিষণ,
বাসন্ত আমোদে আমোদ মন পূরি নিরন্তরে;---
সে দেশে জনম পূর্বে করিলা গ্রহণ
ফ্রাঞ্চিস্কো পেতরাকা কবি; বাক্*দেবীর বরে
বড়ই যশস্বী সাধু, কবি-কুল-ধন,
রসনা অমৃতে সিক্ত, স্বর্ণ বীণা করে।
কাব্যের খনিতে পেয়ে এই ক্ষুদ্র মণি,
স্বমন্দিরে প্রদানিলা বাণীর চরণে
কবীন্দ্র: প্রসন্নভাবে গ্রহিলা জননী
(মনোনীত বর দিয়া) এ উপকরণে।
ভারতে ভারতী-পদ উপযুক্ত গণি,
উপহাররূপে আজি অরপি রতনে॥
 
৪- কমলে কামিনী
কমলে কামিনী আমি হেরিনু স্বপনে
কালিদহে। বসি বামা শতদল-দলে
(নিশীথে চন্দ্রিমা যথা সরসীর জলে
মনোহরা।) বাম করে সাপটি হেলনে
গজেশে, গ্রাসিছে তারে উগরি সঘনে
গুঞ্জরিছে অলিপুঞ্জ অন্ধ পরিমলে,
বহিছে দহের বারি মৃদু কলকলে!---
কার না ভোলে রে মনঃ, এহেন ছলনে!
কবিতা-পঙ্কজ-রবি, শ্রীকবিকঙ্কণ,
ধন্য তুমি বঙ্গভূমে! যশঃ-সুধাদানে
অমর করিলা তোমা অমরকারিণী
বাগ্*দেবী! ভোগিলা দুখ জীবনে, ব্রাহ্মণ,
এবে কে না পূজে তোমা, মজি তব গানে?---
বঙ্গ-হৃদ-হ্রদে চণ্ডী কমলে কামিনী॥
 
 
১৬- কবি
কে কবি--- কবে কে মোরে? ঘটকালি করি,
শবদে শবদে বিয়া দেয় যেই জন,
সেই কি সে যম-দমী? তার শিরোপরি
শোভে কি অক্ষয় শোভা যশের রতন?
সেই কবি মোর মতে, কল্পনা সুন্দরী
যার মনঃ-কমলেতে পাতেন আসন,
অস্তগামি-ভানু-প্রভা-সদৃশ বিতরি
ভাবের সংসারে তার সুবর্ণ-কিরণ।
আনন্দ, আক্ষেপ ক্রোধ, যার আজ্ঞা মানে
অরণ্যে কুসুম ফোটে যার ইচ্ছা-বলে;
নন্দন-কানন হতে যে সুজন আনে
পারিজাত কুসুমের রম্য পরিমলে;
মরুভূমে--- তুষ্ট হয়ে যাহার ধেয়ানে
বহে জলবতী নদী মৃদু কলকলে!